মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু মানসিক নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা, কম নড়াচড়া করা এবং অতিরিক্ত স্ক্রিননির্ভর জীবনযাপন শরীরের বিভিন্ন অংশে পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে মোবাইল ব্যবহার করলে ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে ঘাড় ও মেরুদণ্ডের ব্যথা, পেশির সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদে অস্থিসন্ধির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ অবস্থাকে অনেকে ‘প্রযুক্তিজনিত ঘাড়ের সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থেকে পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও বাড়তে পারে। যদিও মোবাইলের দিকে তাকানো সরাসরি দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দেয়—এমন প্রমাণ সীমিত, তবে বাইরে কম সময় কাটানোর সঙ্গে দৃষ্টিশক্তির অবনতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম কমে গেলে হাতের শক্তি, সূক্ষ্ম নড়াচড়ার দক্ষতা এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে হাতের কাজ ও মোটর দক্ষতার অবনতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া স্মার্ট ঘড়ি দীর্ঘ সময় হাতে পরে থাকলে ত্বকে অ্যালার্জি, জ্বালাপোড়া বা প্রদাহের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই সময়ে সময়ে যন্ত্র খুলে ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজন হলে সুরক্ষামূলক ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে নিয়মিত বিরতি নেওয়া, পর্দাকে চোখের সমতলে রাখা, বাইরে সময় কাটানো, শরীরচর্চা করা এবং দৈনন্দিন হাতে-কলমে কাজের অভ্যাস বজায় রাখলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।















