জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তা বহাল রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। ৬-৩ ভোটের রায়ে আদালত বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই সংবিধান অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হওয়ার অধিকার রাখে।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলেন, ১৮৬৮ সালের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী এবং ১৮৯৮ সালের United States v. Wong Kim Ark মামলার রায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যার পক্ষে পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক বা আইনি ভিত্তি নেই এবং দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা পরিবর্তনের মতো যথেষ্ট প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি।
ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে অস্থায়ী ভিসাধারী বা অনথিভুক্ত অভিবাসী বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে জানিয়েছে, এমন পরিবর্তন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নয়, বরং সংবিধান সংশোধনের মতো প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব।
রায়ের পর ট্রাম্প একে দেশের জন্য ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান এবং জনমতের সমর্থনের কারণে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে না।
নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক সাংবিধানিক নীতির পুনর্ব্যক্তি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, ভিন্ন সিদ্ধান্ত হলে প্রতি বছর কয়েক লাখ শিশু নাগরিকত্ববিহীন অবস্থায় জন্ম নিত এবং ভবিষ্যতে একটি বৃহৎ রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।















