ভারতের আসামে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম-ইন্ডিপেনডেন্ট (উলফা-আই) ধারাবাহিক নিরাপত্তা অভিযানের মুখে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। গ্রেপ্তার, আত্মসমর্পণ, অর্থায়ন ও সহযোগী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ফলে সংগঠনটির কার্যক্রম ও সাংগঠনিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
২৬ জুন আসামের তিনসুকিয়া জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে উলফা-আইয়ের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আসাম পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একে-৫৬ রাইফেল, গোলাবারুদ ও গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী তদন্তে সংগঠনটির দুই সহযোগীকেও আটক করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারীদের পরিবহন ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরে সংগঠনটির বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। মে মাসে উলফা-আইয়ের অর্থায়ন, চাঁদাবাজি ও নতুন সদস্য সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। একই সময়ে মিয়ানমারে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফেরা এক সক্রিয় সদস্যসহ কয়েকজন অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ আটক হন। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, এসব অভিযানে সংগঠনের স্থানীয় নেটওয়ার্ক বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়া সন্ত্রাসবাদ পোর্টাল (SATP)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত ৩৫ জন উলফা-আই সদস্য গ্রেপ্তার এবং ছয়জন আত্মসমর্পণ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে নিরাপদ ঘাঁটি সংকুচিত হওয়া, জনবল কমে যাওয়া এবং মনোবল ভেঙে পড়ায় সংগঠনটির কার্যকর সদস্যসংখ্যা ২০০-এরও নিচে নেমে এসেছে।
যদিও উলফা-আই এখনও বিচ্ছিন্ন হামলা, চাঁদাবাজি ও সীমিত সশস্ত্র তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে, তবুও ধারাবাহিক নিরাপত্তা অভিযান, অর্থনৈতিক চাপ, সহযোগী নেটওয়ার্কের দুর্বলতা এবং নেতৃত্ব সংকটের কারণে তাদের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষয় হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনটির পক্ষে আসামে আগের মতো শক্তিশালী বিদ্রোহী শক্তি হিসেবে ফিরে আসা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।















