যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (MoU) দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি নয়; বরং উভয় পক্ষের কৌশলগত প্রয়োজন থেকে নেওয়া একটি সাময়িক বিরতি—এমন মত দিয়েছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রিপাবলিকান কৌশলবিদ অ্যাডলফো ফ্রাঙ্কো। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন কিংবা তেহরান—কোনো পক্ষই এই সমঝোতাকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছে না।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অতীতের অভিজ্ঞতায় ইরান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আলোচনা ও সমঝোতায় এলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) ইরানের আচরণে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে দাবি করা হয়েছে। তাই বর্তমান সমঝোতাও বাস্তবিক অর্থে পারস্পরিক আস্থার নয়, বরং সময় কেনার একটি পদক্ষেপ।
লেখকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার এখন হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য সময় অর্জন করা। অন্যদিকে, ইরান অর্থনৈতিক চাপ কমানো, অভ্যন্তরীণ সংকট সামাল দেওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ খুঁজছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ বর্তমান সমঝোতার মাধ্যমে দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে সমঝোতার মেয়াদ শেষ হলে বা তা ভেঙে গেলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে।
লেখকের মূল্যায়নে, বর্তমান সমঝোতা মূল সংকটের সমাধান নয়; বরং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাতের আগে উভয় পক্ষের কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের একটি অন্তর্বর্তী পর্যায়। তাই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
















