ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও আর্থিক বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ নৌপথে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বাড়া এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু তেল ও গ্যাস খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; খাদ্য উৎপাদন, সার, পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে শিপিং বীমা ব্যয় বৃদ্ধি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং জ্বালানি সরবরাহের বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি চাপের মুখে পড়তে পারে।
















