আন্তর্জাতিক অভিযান ও ধরপাকড়ের পরও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রগুলোতে এখনও পাঁচ হাজার তিনশোর বেশি মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে মানবপাচারবিরোধী একটি সংগঠন।
সংগঠনটির দাবি, সীমান্ত অঞ্চলের চারটি স্থানে বিদেশি নাগরিকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন এশীয়, আফ্রিকান ও লাতিন আমেরিকান দেশের নাগরিক।
সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, বহু প্রতারণা কেন্দ্র এখনও পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি এবং সেখানে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে কার্যকর অভিযানও পরিচালিত হয়নি। ফলে এসব চক্র এখনো অনলাইন জালিয়াতি ও মানবপাচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গড়ে ওঠা এসব প্রতারণা কেন্দ্র বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। মহামারির সময় এসব কেন্দ্র দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং পরবর্তীতে তা বহু বিলিয়ন ডলারের অপরাধ শিল্পে পরিণত হয়।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কেন্দ্রে কাজ করা অনেক মানুষকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বা প্রতারণার মাধ্যমে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয় এবং নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
প্রতিবেদনে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, খাদ্য বঞ্চনা, একাকী বন্দিত্বসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অপরাধচক্রের শিকার ব্যক্তিরা উদ্ধার হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। বরং অনেক সময় তারা অবিশ্বাস, সামাজিক কলঙ্ক ও নতুন ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হন।
















