যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে কয়েকদিনের অস্থিরতার পর তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এর আগে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তার কারণে তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়ায় জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। জাপানের প্রধান সূচক দুই শতাংশের বেশি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক প্রায় এক দশমিক সাত শতাংশ বেড়েছে। তাইওয়ানের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে হংকংয়ের শেয়ারবাজারে কিছুটা পতন দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে এশিয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শেয়ারবাজার সূচকেও ঊর্ধ্বমুখী ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা দ্রুত কার্যকর হওয়ার কারণে বাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে, কারণ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
মধ্যস্থতাকারী দেশের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে নিরাপত্তা, মাইন অপসারণ এবং জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে সময় প্রয়োজন হবে। ফলে বাজারে আশাবাদ দেখা দিলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
















