মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় গোবর নিয়ে প্রতিবেশীদের বিরোধের জেরে জরিপ সেখ নামে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে উপজেলার চাঠাতিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে প্রতিবেশীর বাড়িতে দুধ কিনতে গিয়ে জরিপ সেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানতে পারেন, গরুর গোবর নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে ইউসুফ সেখ ও তাঁর ছেলে পলাশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পলাশ তাঁর দিকে ইট ছুড়ে মারলে তিনি আহত হন।
পরে ফাতেমা বেগম বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি স্বামীকে জানান। বিষয়টির কারণ জানতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজন গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে জরিপ সেখ ইউসুফ সেখের বাড়িতে যান। সেখানে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইউসুফ সেখ ও তাঁর ছেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। হামলার সময় কুড়ালের আঘাতে গুরুতর আহত হন জরিপ সেখ। তাঁকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন ব্যাপারী জানান, মারধরের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়েই এই হামলার ঘটনা ঘটে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জরিপ সেখ নিহত হন।
নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, তিনি দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু উল্টো তিনি হামলার শিকার হন এবং তাঁর স্বামীকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী অভিযুক্ত ইউসুফ সেখ ও তাঁর ছেলে পলাশকে আটক করে। পরে পুলিশ এসে তাঁদের হেফাজতে নেয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল হক জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
















