ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। হরিয়ানার আম্বালায় অবস্থিত ‘খড়গা কর্পস’ পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যম এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আগামী দিনগুলোতে হিন্দু ছাড়া কেউ সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে পারবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, “ভারতের অধিকাংশ মুসলিম জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত এবং তারা জন্মসূত্রে ভারতীয় নয়।”
তার এই মন্তব্যে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্য ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী এবং তা সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ভারতের ইতিহাসে স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে রাষ্ট্রগঠন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মুসলমানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মওলানা আবুল কালাম আজাদ, ফকির মজনু শাহ, ফজলুল হক, আজিমুল্লাহ খানসহ অসংখ্য মুসলিম নেতা ভারতের মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন বৈষম্যমূলক মন্তব্য শুধু সমাজে বিভাজন তৈরি করবে না, বরং ভারতের বহু ধর্মীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যকেও কলঙ্কিত করবে। তারা বলছেন, একটি রাষ্ট্র তখনই সফল হয় যখন সেখানে ধর্ম, বর্ণ বা জাতি নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করেন।
ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪.২ শতাংশ বা ২১ কোটি মানুষ মুসলমান। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির একাংশে ধর্মীয় সহাবস্থান ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য ভারতে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে আরও উস্কে দিতে পারে।
















