১৭শ শতকের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক যন্ত্র নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ
ভারতের ঐতিহাসিক রাজপরিবারের সংগ্রহে থাকা একটি বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক যন্ত্র এবার নিলামে উঠছে। ১৭শ শতকের এই ব্রাস অ্যাস্ট্রোল্যাব—যাকে অনেকেই প্রাচীন “হাতের সুপারকম্পিউটার” বলেন—লন্ডনে নিলাম আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান সোথেবিস-এ বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে।
এই যন্ত্রটি একসময় জয়পুর রাজপরিবারের সংগ্রহে ছিল। বিশেষভাবে এটি সাওয়াই মান সিং দ্বিতীয়-এর মালিকানায় ছিল এবং পরে তার স্ত্রী গায়ত্রী দেবী-এর কাছে যায়।
অ্যাস্ট্রোল্যাব মূলত একটি জটিল ধাতব যন্ত্র, যার মাধ্যমে সময় নির্ণয়, নক্ষত্রের অবস্থান নির্ধারণ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের হিসাব, এমনকি দিক নির্ণয় করা যেত। আধুনিক স্মার্টফোনের মতোই একাধিক কাজ করতে পারার কারণে একে “প্রাচীন কম্পিউটার” বলা হয়।
এই নির্দিষ্ট যন্ত্রটি তৈরি হয়েছিল বর্তমান লাহোর শহরে, যা মুঘল আমলে অ্যাস্ট্রোল্যাব তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। এটি তৈরি করেন দুই কারিগর—কায়েম মুহাম্মদ ও মুহাম্মদ মুকিম—যারা বিখ্যাত “লাহোর স্কুল”-এর অংশ ছিলেন।
যন্ত্রটির ওজন প্রায় ৮.২ কেজি, ব্যাস প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৪৬ সেন্টিমিটার—যা সাধারণ অ্যাস্ট্রোল্যাবের তুলনায় অনেক বড়। এতে ৯৪টি শহরের স্থানাঙ্ক, ৩৮টি নক্ষত্র নির্দেশক এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিমাপের স্কেল রয়েছে।
এটি তৈরি করা হয়েছিল মুঘল দরবারের প্রভাবশালী অভিজাত আকা আফজাল-এর জন্য, যিনি জাহাঙ্গীর ও শাহজাহান-এর আমলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যন্ত্র শুধু বৈজ্ঞানিক দক্ষতার নিদর্শন নয়, বরং শিল্প ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এর সূক্ষ্ম নকশা ও নিখুঁত পরিমাপ এটিকে তার সময়ের অন্যতম উন্নত যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরে।
নিলামে এর মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ লাখ পাউন্ড, যা আন্তর্জাতিক সংগ্রাহক ও জাদুঘরগুলোর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, এই অ্যাস্ট্রোল্যাব শুধু একটি প্রাচীন যন্ত্র নয়—এটি মুঘল যুগের বিজ্ঞানচর্চা, শিল্পকলা ও জ্ঞানের ঐতিহ্যের এক অসাধারণ সাক্ষ্য।
















