১৬ বছরের শাসনের অবসান, বিপুল জয়ে নতুন নেতৃত্বের উত্থান
ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরি-তে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান সংসদ সদস্যের পদ গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচনে তার দলের বড় পরাজয়ের পর।
২৫ এপ্রিল প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অরবান জানান, এখন তার ভূমিকা সংসদে নয়, বরং “দেশপ্রেমিক আন্দোলন পুনর্গঠন”-এ। যদিও তিনি নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তবুও তিনি সেই ম্যান্ডেট ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অরবানের নেতৃত্বাধীন ফিদেস দল এবার বড় ধাক্কা খেয়েছে। আগের নির্বাচনে ১৩৫টি আসন পেলেও এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫২-এ।
অন্যদিকে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসা তিসা পার্টি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ১৯৯ আসনের সংসদে নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। দলটির নেতৃত্বে আছেন পিটার মাগিয়ার, যিনি একসময় ফিদেসেরই অংশ ছিলেন।
নতুন সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অরবান ১৯৯০ সাল থেকে বিভিন্নভাবে সংসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১০ সাল থেকে টানা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার শাসনামলে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যা দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।
তবে দুর্নীতির অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপে সাধারণ ভোটারদের অসন্তোষ বাড়তে থাকে, যার ফলেই এবারের নির্বাচনে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
আগামী ৯ মে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা হাঙ্গেরির রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















