নাইজেরিয়ার এক তরুণ প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন কোনো বিচার ছাড়াই, যদিও শেষ পর্যন্ত আদালত জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই। এই ঘটনাটি দেশটির বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভুল সময়ে বাইরে যাওয়ার খেসারত
২৩ বছর বয়সী রশীদ ওয়াসিউ ২০২০ সালে দেশজুড়ে চলা এন্ড সার্স আন্দোলন চলাকালে গ্রেপ্তার হন। সে সময় তার মা তাকে ঘরে থাকতে বললেও তিনি বাইরে বের হন এবং পরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে আটক হন।
তার পরিবারের দাবি, তিনি কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি। কিন্তু তাকে অস্ত্র রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়।
বিচার ছাড়াই দীর্ঘ কারাবাস
গ্রেপ্তারের পর তাকে কিরিকিরি সংশোধনাগার-এ রাখা হয়। সেখানে বছরের পর বছর কেটে গেলেও তার মামলার কার্যক্রম এগোয়নি। মাঝে কয়েকবার আদালতে নেওয়া হলেও শুনানি হয়নি।
অবশেষে চলতি মাসে আদালত প্রমাণের অভাবে মামলাটি খারিজ করে দিলে তিনি মুক্তি পান।
কারাগারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
রশীদের ভাষায়, কারাগারের জীবন ছিল “নরকের মতো”। একটি ছোট কক্ষে বহু বন্দীকে রাখা হতো, খাবার ও চিকিৎসার অবস্থা ছিল খুবই খারাপ।
তিনি জানান, অর্থ থাকলে কিছু সুবিধা পাওয়া গেলেও অধিকাংশ বন্দীর জন্য পরিস্থিতি ছিল মানবেতর।
মায়ের খোঁজে অসহায়তা
মুক্তির পর বাড়ি ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার মা নিখোঁজ। প্রতিবেশীরা জানান, ছেলের গ্রেপ্তারের পর মানসিক চাপ ও ভয়ভীতির কারণে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান।
বর্তমানে তিনি আত্মীয়ের বাসায় থাকছেন এবং মায়ের খোঁজে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নাইজেরিয়ায় বিচার ছাড়াই দীর্ঘদিন আটক থাকার ঘটনা নতুন নয়। দেশটির কারাগারে বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনো বিচার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ভবিষ্যতের লড়াই
দীর্ঘ পাঁচ বছর হারানোর পরও রশীদ নতুন করে জীবন শুরু করতে চান। তিনি কাজ খুঁজে স্বাবলম্বী হতে চান এবং একই সঙ্গে তার মাকে খুঁজে পাওয়ার আশা করছেন।
তার ভাষায়, “আমি শুধু একবার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চাই।”















