বাস্তুচ্যুতি ত্বরান্বিত করতে নারী ও শিশুদের ওপর সুপরিকল্পিত নিপীড়নের অভিযোগ; বাড়ছে বাল্যবিবাহ ও স্কুল ত্যাগের হার
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করতে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা ‘যৌন সহিংসতাকে’ একটি পরিকল্পিত যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। মানবাধিকার ও আইনি বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
‘সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স অ্যান্ড ফোর্সিবল ট্রান্সফার ইন দ্য ওয়েস্ট ব্যাংক’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর শারীরিক হামলা, জোরপূর্বক নগ্ন করা এবং যৌন হয়রানির মাত্রা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত পুরো ফিলিস্তিনি জনপদকে আতঙ্কিত করে তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের লোমহর্ষক কিছু তথ্য:
- পৈশাচিক নির্যাতন: ফিলিস্তিনি পুরুষদের নগ্ন করে মারধর করা, শরীরে প্রস্রাব করা, এমনকি জনসমক্ষে যৌনাঙ্গে প্লাস্টিকের বন্ধনী (জিপ-টাই) বেঁধে অপমান করার মতো ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
- নারীদের অবমাননা: ঘরে ঢুকে তল্লাশির নামে ফিলিস্তিনি নারীদের সম্পূর্ণ নগ্ন হতে বাধ্য করা এবং স্পর্শকাতর অঙ্গে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। চেকপয়েন্টে অনেক সেনা মেয়েদের সামনে নিজেদের যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
- সামাজিক ও মানসিক প্রভাব: দীর্ঘস্থায়ী এই আতঙ্কে অনেক মেয়ে স্কুল ছেড়ে দিয়েছে এবং নারীরা কাজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারগুলো ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, যা অঞ্চলে বাল্যবিবাহের হার বাড়িয়ে দিয়েছে।
দায়মুক্তির সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ: ওয়েস্ট ব্যাংক প্রোটেকশন কনসোর্টিয়াম জানিয়েছে, লজ্জা ও সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে ৯৯ শতাংশ ঘটনাই অপ্রকাশিত থেকে যায়। তাদের মতে, সংঘাত সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার যে ১৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, তা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় নগণ্য।
ইসরায়েলের মানবাধিকার সংস্থা ‘ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস’-এর প্রধান মিলেনা আনসারি বলেন, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা কার্যত এই যৌন সহিংসতাকে অনুমোদন দিচ্ছেন। এমনকি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণ করা গ্রহণযোগ্য কি না—তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা বিশ্ববিবেকের জন্য চরম লজ্জাজনক।
সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট এই ‘ইহুদি সন্ত্রাসীদের’ হাত থেকে ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ফিলিস্তিনিদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী ভয় যখন অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখনই তারা ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
















