যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান তাৎক্ষণিকভাবে পদ ছাড়ছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। বুধবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পেন্টাগনের মুখপাত্র জানান, তার পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পালন করবেন নৌবাহিনীর উপসচিব হাং কাও।
তবে কেন তিনি পদত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বে একাধিক পরিবর্তনের মধ্যে এটিই সর্বশেষ ঘটনা।
এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী-এ অবরোধ বজায় রেখেছে।
এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনাবাহিনীর প্রধানকে পদ ছাড়তে বলেন। পাশাপাশি আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকেও সম্প্রতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাকে অপসারণ করেছেন।
নৌবাহিনীর সচিবের দায়িত্ব মূলত প্রশাসনিক। এতে নীতিনির্ধারণ, জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম সরবরাহ, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং জাহাজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ব্যবসায়ী পটভূমি থেকে আসা ফেলান ২০২৫ সালের মার্চে দায়িত্ব নেন। তাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তার পদত্যাগের পেছনে প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা নীতিগত পরিবর্তনের বিষয় থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নৌবাহিনীর সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় অগ্রগতির অভাবের কারণে চাপ তৈরি হয়েছিল।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত হাং কাও দীর্ঘদিনের নৌবাহিনীর সদস্য এবং তিনি রাজনৈতিকভাবেও পরিচিত। অতীতে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।
এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
সামগ্রিকভাবে, নৌবাহিনীর নেতৃত্বে এই আকস্মিক পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত পরিস্থিতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।















