মিয়ানমারের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেও আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে জাতিসংঘ, এই পরিবর্তনকে গণতান্ত্রিক বলে স্বীকৃতি দেয়নি।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, বিশেষ করে “থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স”, সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল এবং বিভক্ত।
এই প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশ ভারত নতুন করে তার পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করছে। একদিকে নয়াপিদোর সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, অন্যদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই ভারতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের এই দুর্বল পরিস্থিতি বাইরের শক্তিগুলোর জন্য কৌশলগত সুযোগ তৈরি করছে, বিশেষ করে চীন-এর জন্য। চীন দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারে অবকাঠামো, জ্বালানি ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে এবং তাদের প্রভাব ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি দ্বিমুখী চাপ তৈরি করেছে। একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি—সীমান্ত এলাকায় অস্থিতিশীলতা, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্যক্রম এবং শরণার্থী সংকট। অন্যদিকে কৌশলগত প্রতিযোগিতা—চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের আঞ্চলিক প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি শুধু একটি অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের অংশ। তাই ভারতের জন্য প্রয়োজন সুসংগঠিত কৌশল, যেখানে কূটনীতি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা একসঙ্গে কাজ করবে।
বর্তমান বাস্তবতায় মিয়ানমারের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত যদি সক্রিয় ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের প্রভাব আরও জোরালো হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।















