মিয়ানমারের সামরিক সরকার শান্তি আলোচনার আহ্বান জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন, তবে তা সাড়া পায়নি।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যেসব গোষ্ঠী এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যুক্ত হয়নি, তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আলোচনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তবে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন দ্রুত এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, সামরিক অভ্যুত্থানের পর তারা পূর্বের চুক্তি থেকে সরে এসেছে এবং নতুন করে আলোচনায় ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই।
একইভাবে চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-ও এই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। সংগঠনটির মুখপাত্র বলেন, তারা একটি গণতান্ত্রিক ফেডারেল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে এবং সামরিক সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।
সমালোচকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইংকে প্রেসিডেন্ট করা হলেও সেটি ছিল সামরিক শাসন টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল, যা প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতিফলন নয়।
বিরোধী রাজনৈতিক জোট ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট জানিয়েছে, এই ধরনের আলোচনার প্রস্তাব মূলত সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার প্রচেষ্টা।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে সামরিক সরকার কয়েক দফা আলোচনার উদ্যোগ নিলেও তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ফলে দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো নিরসনের কোনো স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না।
















