অধ্যাপক ইউনূসের ৯ দিনের ঝটিকা সফরে বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের বার্তা, হোয়াইট হাউসের আতিথেয়তা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক।
ঢাকা/নিউইয়র্ক: বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও একবার উজ্জ্বল করে নয় দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সফর শেষ করে দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর, রাত ১১টা ১০ মিনিটে (নিউইয়র্ক সময়) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে করে তিনি তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK) থেকে দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
তাঁর এই বিদায়বেলায় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আব্দুল কালাম আজাদ মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্যস্ততার ন’টি দিন: বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতা
অধ্যাপক ইউনূসের এই নয় দিনের সফর ছিল অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ ও ফলপ্রসূ।
- জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য: গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে (UNGA) বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
- রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মনোযোগ: ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি বিষয়ক উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রেখে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
- জাতিসংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ: ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এছাড়াও, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উচ্চ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
রাষ্ট্রপতির আতিথেয়তা ও আমন্ত্রণের উষ্ণতা
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে অধ্যাপক ইউনূস এক বিশেষ মুহূর্তে অংশ নেন—সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এই উষ্ণ আতিথেয়তার মাঝে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণও জানান।
এছাড়াও, তিনি নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, ভুটান এবং কসোভো-সহ বেশ কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।
সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে, দেশের অভিভাবক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ২ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাঁর এই সফল সফর বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও এক ধাপ এগিয়ে দিলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।















