বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির জন্য ইসরায়েল, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে দায়ী করেছে Amnesty International। সংস্থাটি তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তিন দেশের নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছে।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে সংস্থার প্রধান অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, বিশ্ব এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে সহিংসতা ও দমন-পীড়ন বাড়ছে এবং অনেক দেশ এসব আচরণ অনুকরণ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্ব পরিস্থিতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নেতার কার্যক্রম অন্য দেশগুলোকে একই ধরনের নীতি অনুসরণে উৎসাহিত করছে, ফলে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশে নাগরিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আফগানিস্তান থেকে জিম্বাবুয়ে পর্যন্ত নানা দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
গাজা, ইউক্রেন এবং ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনেক সরকার এসব পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বদলে নীরব বা আপসের পথ বেছে নিচ্ছে।
তবে কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে প্রতিবাদ, আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা এবং কিছু নেতার বিরুদ্ধে বিচারিক পদক্ষেপকে আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যামনেস্টি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন, না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
















