দীর্ঘ ছাব্বিশ বছরের যাত্রায় এবার নতুন মোড়ে দাঁড়াল স্টারবাকস। একসময় চীনের কফি সংস্কৃতির পথিকৃৎ এই মার্কিন কফি জায়ান্ট এখন স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের দাপটে পিছিয়ে পড়েছে। সেই লড়াইয়ে নতুন শ্বাস নিতে স্টারবাকস ঘোষণা করেছে— তারা তাদের চীনা ব্যবসার বেশিরভাগ অংশ, অর্থাৎ ৬০ শতাংশ, বিক্রি করবে হংকংভিত্তিক প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান বয়ু ক্যাপিটালের কাছে, ৪০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে।
সোমবারের এই ঘোষণা অনুযায়ী, যৌথ উদ্যোগে বয়ু ক্যাপিটাল চীনে স্টারবাকসের খুচরা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেবে, আর স্টারবাকস রাখবে ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব, পাশাপাশি নিজের ব্র্যান্ড ও মেধাস্বত্বের মালিকানাও বজায় রাখবে।
স্টারবাকস বলেছে, এই চুক্তি তাদের চীনা অভিযাত্রায় এক “নতুন অধ্যায়ের সূচনা”।
শাংহাইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষক জেসন ইউ বলেছেন, এই উদ্যোগ স্টারবাকসকে অর্থায়ন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন শক্তি দেবে। এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির চীনে প্রায় আট হাজার শাখা রয়েছে, কিন্তু তাদের লক্ষ্য— যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ হাজার শাখা প্রতিষ্ঠা করা।
কিন্তু সেই পথে বাধা এসেছে দেশীয় প্রতিযোগীদের কাছ থেকে। চীনের স্থানীয় ব্র্যান্ড লাকিন কফি ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ছাব্বিশ হাজারেরও বেশি দোকান খুলেছে, যার বেশিরভাগই চীনে। প্রথম ও দ্বিতীয় সারির শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ স্টারবাকস, আর লাকিন পৌঁছে গেছে ছোট ছোট শহর ও প্রদেশে।
মূল্যেও রয়েছে বড় পার্থক্য। যেখানে স্টারবাকসের একটি ছোট আমেরিকানো কফির দাম ৩০ ইউয়ান, সেখানে লাকিনে একই কফি মেলে মাত্র ১০ ইউয়ানে। ফলে তরুণ গ্রাহকরা ঝুঁকছেন স্থানীয় ব্র্যান্ডের দিকে।
শাংহাইভিত্তিক বিপণন বিশেষজ্ঞ অলিভিয়া প্লটনিক বলেন, “স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো শুধু দামেই নয়, প্রযুক্তি, স্বাদ ও সেবায়ও স্টারবাকসকে ছাপিয়ে গেছে। মিল্ক টি ব্র্যান্ডের উত্থান ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিযোগিতা স্টারবাকসের প্রাধান্য ভেঙে দিয়েছে।”
এই অবস্থায় বয়ু ক্যাপিটালের সঙ্গে অংশীদারিত্ব স্টারবাকসকে দেবে নতুন মূলধন, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও দোকান ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা।
চীনে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এটি নতুন কিছু নয়। ২০১৬ সালে খাদ্য নিরাপত্তা কেলেঙ্কারির পর কেএফসি ও পিজা হাটের মালিক ইয়াম ব্র্যান্ডসও তাদের চীনা ব্যবসায় অংশ বিক্রি করেছিল স্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রিমাভেরা ক্যাপিটাল ও আলিবাবা গ্রুপকে।
২০১৭ সালে ম্যাকডোনাল্ড’সও একই পথ ধরে তাদের চীন, হংকং ও ম্যাকাও ব্যবসার বেশিরভাগ অংশ বিক্রি করেছিল চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিটিক ও কার্লাইল গ্রুপকে।
স্টারবাকসের জন্যও এ যেন অনিবার্য পদক্ষেপ। একসময়ের একচ্ছত্র কফি রাজা এখন নতুনভাবে টিকে থাকার যুদ্ধ শুরু করেছে— বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল কফি বাজারে আবারও নিজের স্থান ফিরে পেতে।
















