জনমত বিরোধী হলেও রাস্তায় নামছে কম মানুষ
ক্লান্তি, ভয় ও বিভ্রান্তিই প্রধান কারণ বলে মত বিশ্লেষকদের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ ধরে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি করলেও পশ্চিমা দেশগুলোতে এ নিয়ে বড় আকারের বিক্ষোভ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে। যদিও জনমত জরিপে যুদ্ধের প্রতি ব্যাপক বিরোধিতা প্রকাশ পেয়েছে, তা সড়কে ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়নি।
যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার বিক্ষোভ হলেও, ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধের তুলনায় তা অনেক কম। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে।
প্রথমত, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত পশ্চিমা দেশের সৈন্যদের প্রাণহানি তুলনামূলক কম। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়নি। যুদ্ধটি অনেকটাই দূর থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে মানবিক ক্ষতির দৃশ্য কম দৃশ্যমান।
দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে অনেক মানুষ মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। গাজা যুদ্ধের সময় ব্যাপক আন্দোলন হলেও তা কাঙ্ক্ষিত ফল না আনায় অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া রাজনৈতিকভাবে নানা ইস্যুতে বিভক্ত সমাজে মানুষ কোন বিষয়ে প্রতিবাদ করবে, তা নিয়েও দ্বিধায় রয়েছে। অভিবাসন নীতি বা অর্থনৈতিক সমস্যার মতো বিষয় অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ইরানকে ঘিরে জটিল ধারণা। গাজার ক্ষেত্রে যেমন একটি নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর প্রতি সরাসরি সহানুভূতি তৈরি হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেকের কাছে ততটা সরল নয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে দ্বিধা বোধ করছেন।
প্রবাসী ইরানিদের মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে, যা আন্দোলনকে শক্তিশালী হতে বাধা দিচ্ছে। কোনো একক নেতৃত্ব বা সংগঠনও সামনে আসতে পারেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আগের মতো বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে না। কঠোর প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, শাস্তির আশঙ্কা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশে বাধার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মানুষ তখনই রাস্তায় নামে যখন তারা বিশ্বাস করে তাদের প্রতিবাদ পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমানে সেই বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তবে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে। যদি যুদ্ধের মানবিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব আরও সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে আঘাত হানে, তাহলে বিক্ষোভ আবারও জোরালো হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















