জর্জ গ্লাস ইস্যুতে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন
দুই প্রেসিডেন্টের বিরোধে লাতিন আমেরিকায় নতুন কূটনৈতিক সংকট
লাতিন আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। জর্জ গ্লাসকে ঘিরে মন্তব্যের জেরে কলম্বিয়া থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে ইকুয়েডর।
ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলম্বিয়ার পক্ষ থেকে গ্লাস ইস্যুতে দেওয়া মন্তব্যকে তারা উসকানিমূলক হিসেবে দেখছে এবং এটি তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে।
জর্জ গ্লাস ইকুয়েডরের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট, যিনি দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার মামলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।
কিছু মহল গ্লাসকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে দাবি করলেও ইকুয়েডরের সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাকে দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো গ্লাসের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া বলেন, এ ধরনের মন্তব্য তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার লঙ্ঘন।
এর আগে মেক্সিকো দূতাবাসে অভিযান চালিয়ে গ্লাসকে গ্রেপ্তারের ঘটনায়ও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা হয়েছিল, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যুতেও পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্য এই বিরোধকে আরও জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনার ফলে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।
















