যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে তেলের দাম হঠাৎ কমে গেছে এবং শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৪ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। তবে এই দাম এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বেশি রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে চাপ তৈরি হয়।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। লন্ডন, প্যারিস ও জার্মানির বাজারে সূচক উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একইভাবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি করেছে। ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি স্থায়ী নাও হতে পারে। কারণ জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে।
এদিকে কিছু জাহাজ ইতোমধ্যে প্রণালী পার হতে শুরু করেছে, যা বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। বিভিন্ন দেশ নিজেদের জাহাজ চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে তেলের দাম স্বাভাবিক হতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তি চুক্তি ছাড়া পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফিরে আসা কঠিন হবে।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারে, কারণ তারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
















