হাভানায় শত শত নারীর মিছিল, তেল সরবরাহ বন্ধে মানবিক সংকটের অভিযোগ
সরকারের দাবি, অবরোধ বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে
কিউবার রাজধানী হাভানায় শত শত নারী যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত জ্বালানি অবরোধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে, যা দেশটির সরকার “অত্যাচারের নীতি” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মঙ্গলবারের এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা “অবরোধ ভেঙে দাও” স্লোগান দেন এবং কিউবার পতাকা বহন করেন। অনেকের হাতে ছিল “No More Blockade” লেখা প্ল্যাকার্ড।
কিউবার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফিনা ভিদাল বলেন, এই অবরোধ পুরো দেশের জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং এটি এক ধরনের সমষ্টিগত শাস্তি।
এই বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয় কিউবান বিপ্লবের নেত্রী ভিলমা এসপিনের জন্মবার্ষিকীতে, যেখানে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নীতির ফলে কিউবার বিদেশি তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে এবং একাধিকবার ব্ল্যাকআউট হয়েছে।
জ্বালানির অভাবে হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কিউবান কর্তৃপক্ষ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কিউবার মোট জ্বালানির প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরশীল, ফলে সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে কিউবার ওপর চাপ বাড়াতে এবং দেশটির সরকারকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে বলে অভিযোগ কিউবার।
এদিকে রাশিয়া ইতোমধ্যে কিউবায় তেলবাহী জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা এই অবরোধের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু কিউবার অর্থনীতি নয়, মানবিক সংকটও গভীর করছে এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
















