দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে চলার তাগিদ, আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান বিভিন্ন দেশের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, তবে সবাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য পূর্ণ প্রতিশ্রুতি ও সংযমের ওপর জোর দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরাক বলেছে, স্থায়ী সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে।
মিশর এই চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এটি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খুলে দিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সকল পক্ষকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এতে বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা এবং মানবিক সংকট কমানো সম্ভব হবে।
ওমান ও মালয়েশিয়া যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে স্থায়ী শান্তির জন্য আরও আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
জাপান, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ একাধিক দেশ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ শুরু হলেও এখনও অনেক পথ বাকি।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেছেন, এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন জানালেও স্পষ্ট করেছেন যে এটি লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানকে অন্তর্ভুক্ত করে না।
ইউক্রেনও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একইভাবে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত থামাতে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি বড় সুযোগ তৈরি করলেও, এর সফলতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আন্তরিকতা ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর।
















