বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, পণ্য পরিবহন ব্যয় তিন গুণ বৃদ্ধি; দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
দেশজুড়ে তীব্র ডিজেল সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন খাতে। জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি থাকায় রাজধানীসহ সারাদেশে বাসের ট্রিপ সংখ্যা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এতে একদিকে যাত্রীদের যাতায়াত খরচ ও ভোগান্তি বেড়েছে, অন্যদিকে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের বাজারদরে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, তেলের জন্য চালকদের ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় অনেক পরিবহন মালিক বাধ্য হয়ে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন।
পরিবহন খাতের বর্তমান চিত্র:
- গণপরিবহনে হাহাকার: সিটি সার্ভিসের বাসের ট্রিপ প্রায় অর্ধেক (৫০%) এবং দূরপাল্লার বাসের ট্রিপ ৩০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে অফিসগামী যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাসে উঠতে না পেরে অনেকেই কয়েক গুণ বাড়তি ভাড়ায় রিকশা বা রাইড-শেয়ারিং অ্যাপে যাতায়াত করছেন।
- পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি: ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ঢাকা থেকে পণ্য পরিবহনে আগে যেখানে ১৫ হাজার টাকা লাগত, এখন সেখানে ৪৫ থেকে ৪৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বগুড়া থেকে চট্টগ্রাম বা সিলেট রুটেও ভাড়া ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল হ্রাস: জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি এড়াতে রাজধানীর অনেক মালিক ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেটকার) বের করছেন না। এর ফলে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমলেও মেট্রোরেল ও বাসে যাত্রীদের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে।
- নৌপথে স্থবিরতা: স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশেষ করে নোয়াখালী-হাতিয়া এবং পাবনার কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে শত শত নৌ-শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
চালক ও শ্রমিকদের সংকট: ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে চালকরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছেন না, যা সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বাসের ট্রিপ কমে যাওয়ায় চালক-হেলপারদের দৈনিক আয় কমলেও মালিকপক্ষ ‘জমা’র টাকা না কমানোয় তাঁদের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস উঠেছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন যে, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে, যার প্রভাব সরাসরি দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের পকেটে পড়বে।














