যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে তেহরানও পাল্টা জবাবের হুমকি দিয়েছে, ফলে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছে একটি জ্বালানি স্টেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে স্থানীয়ভাবে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় কয়েকজন শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
ইরানের পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট একটি ভারী পানির স্থাপনাতেও হামলার নিন্দা জানিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ একে মানবস্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে অপরাধ বলে উল্লেখ করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে। আবুধাবিতে ভেঙে পড়া ধ্বংসাবশেষে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
সৌদি আরবও জানিয়েছে, তারা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে চলাচল নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ট্রাম্প আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। উত্তরাঞ্চলের হাইফা শহরের একাধিক স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং কিছু এলাকায় আহতের ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর হামলায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরেও অভিযানে গুলি চালিয়ে এক কিশোরকে আহত করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে যুদ্ধের ৩৮তম দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রতিটি নতুন হামলা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করছে।
















