১০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হচ্ছে অপরিশোধিত তেলের মজুত; ২৫ দিন বন্ধ থাকার শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রণে দেশে অপরিশোধিত তেলের আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইতিহাসের প্রথমবারের মতো বন্ধ হওয়ার পথে রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। গত ৩৫ দিনে কোনো তেলের জাহাজ না আসায় বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য মাত্র ২০ হাজার টন কাঁচামাল অবশিষ্ট আছে, যা দিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালানো সম্ভব হবে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িক বিরতি নিলেও, কাঁচামালের অভাবে ইআরএল বন্ধ হওয়ার ঘটনা এই প্রথম। প্রতিষ্ঠানটি মাসে গড়ে দেড় লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও উৎপাদনের চিত্র:
- উৎপাদন হ্রাস: স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৪,৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন করলেও কাঁচামাল সংকটে তা কমিয়ে ৩,২০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। ১০ এপ্রিলের পর এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
- আমদানি সূচি: পরবর্তী ১ লাখ টনের জাহাজ মে মাসের ১ তারিখের আগে আসার সম্ভাবনা নেই। জাহাজ খালাস ও প্রক্রিয়া শেষে উৎপাদন শুরু করতে আরও অন্তত ৫ দিন সময় লাগবে। ফলে প্রায় ২৫ দিন কারখানাটি অচল থাকবে।
- পণ্য উৎপাদন: ইআরএল বন্ধ থাকলে ডিজেল ও পেট্রোলের পাশাপাশি ন্যাফথা উৎপাদন ব্যাহত হবে, যা জ্বালানি মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় অপরিহার্য।
বিপিসি ও মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, রিফাইনারি বন্ধ হলেও দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের বড় কোনো সংকট হবে না।
- অকটেন ও পেট্রোল: দেশে বর্তমানে তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত আছে। এছাড়া দেশীয় কনডেনসেট প্লান্ট থেকে পেট্রোলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় চলতি মাসে ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
- ডিজেল সরবরাহ: এপ্রিলে প্রায় ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির সূচি রয়েছে, যা মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশ। গত দুদিনে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে ৩১ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
- বিকল্প উদ্যোগ: সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন ‘ক্রুড অয়েল’ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে, যা ২০ এপ্রিল লোড হয়ে মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছাবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে ১ লাখ টন তেল নিয়ে আরও একটি জাহাজ (এমটি নরডিক পলুকস) আটকে আছে।
বিপিসির মতে, ফার্নেস অয়েল এবং জেট ফুয়েলের মজুত পুরো এপ্রিল মাসের জন্য পর্যাপ্ত। তবে ইআরএল বন্ধ থাকায় সাময়িকভাবে সরবরাহ চেইনে যে চাপ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানির ওপরই নির্ভর করতে হবে সরকারকে।
















