প্রস্তুতিতে ঘাটতি, বড় ধরনের রপ্তানি ক্ষতির আশঙ্কা
অর্থনীতি, জলবায়ু ও নীতিনির্ধারণে দুর্বলতা কাটাতে দ্রুত সংস্কারের তাগিদ
বাংলাদেশ আগামী ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকলেও এ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকির সতর্কতা দিয়েছে জাতিসংঘের এক নতুন মূল্যায়ন প্রতিবেদন।
জাতিসংঘের প্রস্তুতকৃত এই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেও মসৃণভাবে এই পরিবর্তন সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটি পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বাণিজ্য সুবিধা হারানোর কারণে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পায়, যা উত্তরণের পর ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে।
আগের এক হিসাব অনুযায়ী, এই সুবিধা কমে গেলে বাংলাদেশ প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া এবং অর্ডার হ্রাসের সময় এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অস্থিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার মতো চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি ঋণ বৃদ্ধি ও সীমিত নীতিগত সক্ষমতাও উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জলবায়ু ঝুঁকিকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নীতিগত সমন্বয়, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ, যেখানে সরকার, বেসরকারি খাত এবং অন্যান্য অংশীদারদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এদিকে বাংলাদেশ এই উত্তরণ প্রক্রিয়া তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে। আবেদনটি বর্তমানে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির বিবেচনায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনটিতে দ্রুত নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য আলোচনা সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি খাত বৈচিত্র্য করা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা।
এই মূল্যায়ন একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নিয়ে দেশের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।
















