হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাবে দ্বিগুণের বেশি ডিজেলের দাম, আয় কমে যাচ্ছে চালকদের
বাড়তি খরচে কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন অনেক চালক, সংকটে পড়েছে সাধারণ মানুষ
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভিয়েতনামের গিগ অর্থনীতির কর্মীরা বড় সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং চালকরা তাদের আয়ের বড় অংশই জ্বালানির পেছনে খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে চালকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় কাজ করেও আয় থেকে প্রায় অর্ধেকই চলে যাচ্ছে জ্বালানি কিনতে। ফলে অনেকেই কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না।
দেশটি সাধারণত তার অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল কুয়েত থেকে আমদানি করে। তবে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে।
ডিজেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে এবং পেট্রোলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চালকদের অনেকেই কাজ বন্ধ করে দিচ্ছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানির ওপর পরিবেশ কর সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, যাতে দাম কিছুটা কমানো যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ভিয়েতনামের মতো অর্থনীতির জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে, কারণ দেশটি আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
গিগ কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কারণ তাদের আয়ের নিশ্চয়তা নেই এবং শ্রমিক সুরক্ষা ব্যবস্থাও সীমিত। ফলে তারা বেশি সময় কাজ করেও পর্যাপ্ত আয় করতে পারছেন না।
পরিবহন খাতেও চাপ বেড়েছে। বাস ও বিমান সংস্থাগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে, যাত্রী পরিবহন ব্যয় বাড়লেও আয় তেমন বাড়ছে না।
গ্রামীণ এলাকাতেও এর প্রভাব পড়েছে। জেলেরা জানিয়েছেন, জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের আয় কমে গেছে, কারণ মাছ বিক্রির দামও কমে এসেছে।
নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোও সংকটে পড়েছে। রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই কাঠের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে দেশটির জ্বালানি নির্ভরতা ও অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৈরি করেছে।
তারা মনে করছেন, বিকল্প জ্বালানি উৎস ও নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া এই ধরনের সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।















