যুদ্ধকালীন ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতায় চাকরি ও ব্যবসায় বড় ধাক্কা
বছরের অধিকাংশ সময় ডিজিটাল অন্ধকারে কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ
ইরানে সরকার আরোপিত প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ পরিস্থিতি দেশটির ইতিহাসে নয়, বরং বিশ্বে যেকোনো দেশের মধ্যে দীর্ঘতম জাতীয় পর্যায়ের ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার রেকর্ড গড়েছে।
পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার মাত্র এক শতাংশে নেমে এসেছে।
এর আগে জানুয়ারিতেও প্রায় ২০ দিনের ইন্টারনেট বন্ধ ছিল, ফলে চলতি বছরের অধিকাংশ সময়ই সাধারণ মানুষ কার্যত ডিজিটাল অন্ধকারে কাটাচ্ছেন। সীমিত একটি অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শুধু কিছু সরকারি সেবা ও বার্তা আদান-প্রদান সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও ইরানের মতো পুরো দেশকে দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রায় সম্পূর্ণ অফলাইনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল।
এই পরিস্থিতিতে দেশটির অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে। জানুয়ারির বন্ধের সময়ই দেখা গেছে, অনেক অনলাইন ব্যবসা তিন সপ্তাহের বেশি টিকতে পারেনি এবং প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহ পরও সরকার এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা দেয়নি, ফলে প্রযুক্তিনির্ভর খাত ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইতোমধ্যে অনেক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। প্রযুক্তি খাতে কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে ছাঁটাই শুরু হয়েছে এবং নতুন চাকরি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরেকজন কর্মী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত কর্মী কমানো এড়াতে কম বেতন বৃদ্ধি দিচ্ছে, তবে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির কারণে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকারখানা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের ভেতরে সীমিতসংখ্যক মানুষ বিশেষ অনুমতিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন, অথবা অতিরিক্ত খরচে বিকল্প সংযোগ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সাধারণ জনগণের জন্য বৈশ্বিক ইন্টারনেট কার্যত বন্ধই রয়েছে।
অনেকে বলছেন, তারা বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ নিয়েও উদ্বিগ্ন, কারণ অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
এদিকে সরকার ধাপে ধাপে সীমিত ইন্টারনেট ব্যবস্থার পরিকল্পনা করছে, যেখানে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সংযোগ পেতে পারে।
তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও হতাশা বাড়ছে, কারণ তারা জানেন না এই পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে।















