পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমা ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব
ইরানের পদক্ষেপে আঞ্চলিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মত উপসাগরীয় নেতাদের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ যুদ্ধ বন্ধে একটি নতুন শান্তি রূপরেখা প্রস্তাব করেছেন। তার প্রস্তাবে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কথা বলা হয়েছে।
জারিফের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমা আরোপ করতে পারে এবং এর বিনিময়ে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু বেসামরিক প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি বাড়াবে। তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে কৌশলগত সমঝোতার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান প্রতিশ্রুতি দিতে পারে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামিয়ে আনবে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক অনাক্রমণ চুক্তির কথাও বলেছেন জারিফ, যাতে ভবিষ্যতে দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা না চালায়।
তিনি আরও প্রস্তাব করেন, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আঞ্চলিকভাবে একটি যৌথ পারমাণবিক জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলো অংশ নেবে।
একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশ, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্র এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিকে নিয়ে একটি নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আহ্বান জানান তিনি, যাতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
তবে জারিফের এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে উপসাগরীয় কিছু দেশ। তারা বলছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলা ও আক্রমণাত্মক নীতির কারণে আঞ্চলিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়টি উপেক্ষা করে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীও মন্তব্য করেছেন, প্রস্তাবটি কৌশলগত হলেও ইরানের পদক্ষেপের কারণে আঞ্চলিক সম্পর্ক জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, সাময়িক সাফল্য থাকলেও এর ফলে আঞ্চলিক বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের বড় অংশ হারিয়েছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব কূটনৈতিক সমাধানের একটি পথ দেখালেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পারস্পরিক অবিশ্বাস বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
















