টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে সংঘর্ষের মধ্যেই সফল উদ্ধার অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানে ভূপাতিত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার ঘিরে উত্তেজনা
ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় পাইলটকে অবশেষে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে চলা তল্লাশি ও সংঘর্ষের পর এই উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার তিনি জানান, ইরানের ভেতরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আটকে পড়া ওই সেনাসদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উদ্ধার অভিযানের সময় ইরানি ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে দক্ষিণ ইরানের আকাশে উড়তে থাকা এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। এতে দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই একজনকে উদ্ধার করা হলেও দ্বিতীয় পাইলট নিখোঁজ ছিলেন।
ইরান দাবি করে, তাদের উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। এটি চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা।
নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই তৎপর হয়ে ওঠে। ইরান জনগণকে আহ্বান জানায়, ওই সেনাসদস্যকে খুঁজে পেলে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে।
মার্কিন বাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং নিখোঁজ পাইলটের অবস্থান শনাক্ত করে। উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়। এই সময় ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, উদ্ধার হওয়া পাইলট গুরুতর আহত হলেও তিনি এখন নিরাপদে আছেন। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, উদ্ধার অভিযানের সময় তারা একাধিক মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের সময় ইরানের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয় এবং স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও অংশ নিতে দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্ধার অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত স্বস্তি এনে দিয়েছে, কারণ এতে একজন সেনাসদস্য শত্রুপক্ষের হাতে বন্দি হওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো গেছে।
















