লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুই শিশু নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় মোট প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হাব্বুশ এলাকায় হামলায় দুই কিশোরী নিহত এবং ২২ জন আহত হন। পৃথক আরেকটি হামলায় উপকূলীয় শহর টাইরের কাছে আল-হাউশ এলাকায় ১৮ জন আহত হন, যাদের মধ্যে শিশু, নারী ও জরুরি সেবাকর্মী রয়েছেন।
এই হামলায় একটি বড় হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাছাকাছি ভবন ধ্বংস হওয়ায় বিস্ফোরণের প্রভাবে হাসপাতালের জানালা ভেঙে গেছে এবং ছাদের অংশ ধসে পড়েছে। তবে চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।
রাতভর হামলায় হাসপাতালের আশপাশে একাধিক ভবন ধ্বংস করা হয়। পরবর্তীতে টাইর শহর ও আশপাশে আরও কয়েকটি ভবনে হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে একটি ১১ তলা ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
এছাড়া একটি পাঁচ তলা ভবনের অর্ধেক অংশ ধসে পড়ে এবং একটি শরণার্থী শিবিরেও হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। কিছু স্থানে সড়ক ও সেতু ধ্বংস করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইসরায়েল স্থল অভিযানও জোরদার করেছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
এদিকে চলমান হামলার কারণে টাইর শহর থেকে হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। তবুও বহু মানুষ এখনও সেখানে অবস্থান করছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই বাস্তুচ্যুত।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৩৬৮ জন নিহত এবং চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই সামরিক অভিযান দীর্ঘমেয়াদি দখল পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে, তবে এতে হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে দুর্বল করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ লেবাননে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে এবং বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে।
















