অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে অবস্থিত ইব্রাহিমি মসজিদে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হয়েছে। নতুন পদক্ষেপগুলো পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে প্রয়োগ করা নীতির মতোই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনিদের জন্য মসজিদে প্রবেশ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। একসময় যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে অল্প দূরত্ব পাড়ি দিতে এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
১৯৯৪ সালে এক হামলায় ২৯ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মসজিদ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বাড়তে থাকে। এরপর ধীরে ধীরে মসজিদটিকে মুসলিম ও ইহুদি উপাসনার জন্য ভাগ করা হয় এবং আশপাশে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন বাড়ানো হয়।
পরবর্তীতে হেবরন শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়—এক অংশ ফিলিস্তিনি প্রশাসনের অধীনে এবং অন্য অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। ইব্রাহিমি মসজিদ ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত অংশে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদে প্রবেশের সময় তাদের তল্লাশি, হয়রানি, এমনকি গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় নারী ও শিশুদেরও আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইসরায়েল দাবি করে, এসব ব্যবস্থা নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনিরা বলছেন, এটি তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার কৌশল।
সম্প্রতি গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হয়েছে। অনেক রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং মসজিদে প্রবেশে আরও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
মসজিদের আশপাশে অসংখ্য চেকপয়েন্ট ও লোহার গেট বসানো হয়েছে, যা চলাচলকে প্রায় অচল করে দিয়েছে। অনেক সময় বাসিন্দাদের নিজ বাড়ি থেকেও বের হতে দেওয়া হয় না।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েল মসজিদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণেও হস্তক্ষেপ করছে এবং এটি ধীরে ধীরে একটি ইহুদি উপাসনালয়ে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি বসবাস করেন, যেখানে মাত্র কয়েকশ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী রয়েছে। তাদের সুরক্ষায় বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে গত দুই দশকে এই এলাকায় ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এতে নতুন বসতি স্থাপন ও ভূমি দখলের প্রক্রিয়া দ্রুততর হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইব্রাহিমি মসজিদকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
















