মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান-এ চলমান যুদ্ধে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বড় ধরনের ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজধানী তেহরান-এর উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা কেন্দ্র সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। লেজার ও প্লাজমা গবেষণা ইনস্টিটিউট নামে পরিচিত এই কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
সরকার আগেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইনে পাঠদান চালু করায় সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তবে আশপাশের আবাসিক ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র ও বৈজ্ঞানিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। তাদের দাবি, এটি শুধু স্থাপনার ওপর আঘাত নয়, বরং জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ওপর সরাসরি হামলা।
এর আগে তেহরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়, যেখানে দেশীয় উপগ্রহ তৈরির কাজ চলছিল। এছাড়া শতবর্ষ পুরোনো একটি চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠানও হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে দেশজুড়ে অন্তত ২০টির বেশি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এতে চিকিৎসা কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
শুধু শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতই নয়, শিল্প ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতেও হামলা বাড়ানো হয়েছে। তেলসমৃদ্ধ একটি শিল্পাঞ্চলে একাধিক শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেও হামলা চালানো হয়, যেখানে বেসামরিক লোকজন অবস্থান করছিল। এতে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠছে। শতাধিক আইন বিশেষজ্ঞ এসব হামলাকে মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ইরান সরকার জানিয়েছে, তারা আত্মসমর্পণ করবে না এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হবে। ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
















