ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তের নদী ও জলাভূমি অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে কুমির ও সাপ ব্যবহারের একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কঠিন ভৌগোলিক পরিস্থিতিতে নজরদারি বাড়াতে বিকল্প উপায় খোঁজার অংশ হিসেবে এই ধারণা সামনে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন এলাকাগুলোতে এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব কি না তা যাচাই করতে, যেখানে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা কঠিন। নদী, খাল, জলাভূমি ও পাহাড়ি জলপথের মতো অঞ্চলগুলোতে এই পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে কি না, তা নিয়ে মূল্যায়ন চলছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় চার হাজার কিলোমিটারের বেশি, যার একটি বড় অংশ নদী ও দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। এসব অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বেষ্টনীবিহীন রয়েছে, যা সীমান্ত নজরদারিতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জনবল সংকট, কঠিন পরিবেশ এবং দীর্ঘ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কারণে নজরদারিতে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এ কারণেই প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ এই প্রস্তাব নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন। তাদের মতে, বন্যপ্রাণীকে এভাবে ব্যবহার করলে পরিবেশগত, মানবিক এবং আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ইতিহাসে দুর্গ রক্ষায় খাল বা পরিখায় বিপজ্জনক প্রাণী ব্যবহারের উদাহরণ থাকলেও আধুনিক সময়ে এমন ধারণা বিরল। অতীতে অন্য দেশেও সীমান্ত নিরাপত্তায় এ ধরনের প্রস্তাব উঠেছিল, তবে তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা ও নানা ঘটনা নিয়ে সম্পর্ক সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। সীমান্তে প্রাণহানি, অনুপ্রবেশের অভিযোগ এবং দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো সীমান্তে বলপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে ভারত বলছে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়।
এদিকে ভারত সীমান্ত আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর দিকেও এগোচ্ছে। তবে নদী ও জলাভূমি এলাকায় এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা সীমিত হওয়ায় বিকল্প পদ্ধতির চিন্তা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অপ্রচলিত পদক্ষেপ সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও কঠোর করতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি বাড়াতে পারে।
এর মধ্যেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আসন্ন ভারত সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করা এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই সফর ভূমিকা রাখতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, কুমির ও সাপ ব্যবহারের প্রস্তাব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন ও বিতর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
















