সাইবার প্রতারণা চক্র দমনে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে নতুন আইন অনুমোদন করেছে কম্বোডিয়ার জাতীয় সংসদ। এই আইনের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারণা কার্যক্রম পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশটির বিচারমন্ত্রী কিউট রিথ জানিয়েছেন, এই আইন চলমান “পরিষ্কার অভিযান” আরও জোরদার করবে এবং ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা কেন্দ্র যেন আবার গড়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করবে।
নতুন আইনে অনলাইন প্রতারণার জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সংঘবদ্ধ চক্র বা বহু মানুষের বিরুদ্ধে প্রতারণা করলে শাস্তি আরও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া মানবপাচার, জোরপূর্বক আটকে রাখা বা নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত প্রতারণা চক্রের মূল হোতাদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
আইনটিতে অর্থপাচার, ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতারণার জন্য লোক নিয়োগের মতো অপরাধগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী চাপের মুখে এই আইন পাস করা হয়েছে, কারণ কম্বোডিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে সাইবার প্রতারণার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এসব প্রতারণা কেন্দ্রে বহু মানুষকে জোরপূর্বক আটকে রেখে কাজ করানো হয় এবং তারা নির্যাতনের শিকার হন।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এসব প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে কম্বোডিয়ায় সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
















