ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের ৩৬তম দিনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যা এই যুদ্ধে বড় ধরনের মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি যুদ্ধবিমান ইরানের একটি প্রদেশে বিধ্বস্ত হয় এবং আরেকটি উপসাগরীয় অঞ্চলে পড়ে যায়। এতে দুইজন সেনাকে উদ্ধার করা হলেও একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে খুঁজে পেতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
ইরান বলেছে, তাদের নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেই এই বিমানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এই ঘটনার পর তেহরানে মানুষ রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এটিকে বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতাও কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। ইরান একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পরিস্থিতি নিয়ে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইসরায়েলের দিকে ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে শিল্প এলাকায় আগুন লাগে। একই সঙ্গে চলমান সংঘাত দেশটির অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ায় জনমত প্রভাবিত হতে পারে এবং সরকারের জন্য যুদ্ধের সমর্থন ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বজুড়ে এই সংঘাতের প্রভাবও বাড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশে সরবরাহ সংকট দেখা দিচ্ছে।
সার্বিকভাবে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
















