ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শতাধিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এক যৌথ চিঠিতে এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সনদের অনুমোদন ছাড়া এবং তাৎক্ষণিক কোনো হুমকির প্রমাণ ছাড়াই এই সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ কেবল আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে বৈধ হতে পারে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই শর্ত পূরণ হয়নি।
চিঠিতে চারটি প্রধান বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে—যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তের বৈধতা, যুদ্ধ পরিচালনার ধরন, শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বল হয়ে পড়া।
তারা অভিযোগ করেছেন, হামলায় স্কুল, হাসপাতাল, পানির স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধের শুরুতেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে। এসব মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও বড় চাপ সৃষ্টি করছে এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে বৈশ্বিক আইনব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
















