হাইতিতে হারিকেন মেলিসার তাণ্ডব
ক্যারিবিয়ান সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মেলিসা জ্যামাইকা ও হাইতিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটিয়ে এখন বারমুডার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশে মেলিসার প্রভাবে এ পর্যন্ত ৪৯ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
- জ্যামাইকা: দেশটির তথ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে শুধু জ্যামাইকাতেই ১৯ জন মারা গেছেন।
- হাইতি: শিশুসহ ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আরও ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
- আকস্মিক বন্যা: হাইতির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি নদীর বাঁধ উপচে পড়ায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এসব প্রাণহানি ঘটেছে।
- হাইতির অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি পরিষদের প্রধান লরেন্ট সেন্ট-সি এই পরিস্থিতিকে দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
জ্যামাইকায় মেলিসার তাণ্ডব
গত মঙ্গলবার ক্যাটাগরি-৫ হারিকেন হিসেবে মেলিসা জ্যামাইকায় আছড়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড়টি স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ঘণ্টায় প্রায় ২৯৮ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ১৮৫১ সালের পর জ্যামাইকায় আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়।

- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: সেন্ট এলিজাবেথ ও ব্ল্যাক রিভার এলাকায় সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে মেলিসা।
- ভৌত অবকাঠামো: প্রবল বাতাসে হাজার হাজার ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে, অনেক ভবন ভেঙে পড়েছে এবং রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- বিপর্যস্ত পরিষেবা: বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়েছেন।
উদ্ধার ও পরবর্তী গতিপথ
হাইতি ও জ্যামাইকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে অনেক জায়গায় এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নদী এলাকায় ভূমিধস ও পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। পরিপূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো জানা যায়নি।
বর্তমানে মেলিসা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বাহামা ও বারমুডার দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। পূর্ব কিউবায় সতর্কতা হিসেবে ৭ লাখ ৩৫ হাজার মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।















