নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে চলমান সহিংসতা বহু পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। প্ল্যাটো অঙ্গরাজ্যের অনেক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
একটি গ্রামের যুবনেতা জানান, গভীর রাতে গুলির শব্দ শুনে তারা প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। হামলাকারীরা গ্রামে ঢুকে গুলি চালায় এবং মানুষের আর্তচিৎকার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়।
গ্রামবাসীদের ধারণা, হামলাকারীরা ছিল ফুলানি জাতিগোষ্ঠীর সদস্য, যারা ঐতিহ্যগতভাবে গবাদিপশু পালনে যুক্ত এবং অধিকাংশই মুসলিম। অন্যদিকে অনেকেই এটিকে ধর্মীয় নিপীড়ন বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তবে সরকার এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, বিভিন্ন সংঘাতে সব ধর্মের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়ভাবে যাদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে গণ্য করা হয় তারা চাকরি ও জমির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়, আর ‘বসতি স্থাপনকারী’ হিসেবে বিবেচিত অন্যরা, বিশেষ করে ফুলানিরা, বঞ্চিত থাকে—যদিও তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেখানে বসবাস করছে।
২০০১ সালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং অনেককে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়। এরপর থেকে প্রতিশোধমূলক হামলা, গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকে।
অনেকের মতে, এই সংঘাতের মূল কারণ ধর্ম নয়, বরং জমি ও সম্পদের দখল নিয়ে প্রতিযোগিতা। কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে পড়েছে। আগে ফসল কাটার পর গবাদিপশু মাঠে চরত এবং জমি উর্বর করত, কিন্তু এখন জনসংখ্যা বাড়ায় জমির চাপ বেড়েছে এবং পানি ও চারণভূমি নিয়ে বিরোধ তীব্র হয়েছে।
একজন তরুণ পশুপালক জানান, তাদের গবাদিপশু পরিবারের সম্পদ। কিন্তু সাম্প্রতিক এক হামলায় তার ভাই নিহত হয়েছে এবং তাদের অধিকাংশ গরু হত্যা বা চুরি হয়ে গেছে। তিনি প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার চান বলে জানান।
অন্যদিকে কৃষকরাও অভিযোগ করছেন, পশুপালকরা তাদের ফসল নষ্ট করছে এবং জমি দখল করছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস ও ক্ষোভ বাড়ছে।
সরকার বিভিন্ন শান্তি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে। তবে অনেক এলাকায় এখনো আইনশৃঙ্খলার ঘাটতি রয়েছে এবং অপরাধীদের শাস্তির অভাব প্রতিশোধের সংস্কৃতি তৈরি করছে।
কিছু উদ্যোগে মুসলিম ও খ্রিস্টান কৃষক-পশুপালকদের একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা চলছে। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, একসঙ্গে কাজ করলে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
স্থানীয়দের মতে, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি ধীর প্রক্রিয়া। পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা, বিরোধ মীমাংসা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই কেবল এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
















