ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের ডিমোনা শহর ও পাশের আরাদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। ডিমোনা শহরে দেশটির প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা অবস্থিত, যা এই হামলাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরাদে অন্তত ১১৬ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। শহরের কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ডিমোনায় আরও ৬৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। একাধিক আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অনেকেই ধ্বংসস্তূপ ও বিস্ফোরণের টুকরোতে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি ১০ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, একই দিনে তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাব হিসেবেই এই আঘাত হানা হয়েছে। এতে করে সংঘাত নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে দেশের জন্য কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলার সময় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল, তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে ডিমোনা ও আরাদে সরাসরি আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিমোনায় তিনটি আলাদা স্থানে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। একটি তিনতলা ভবন ধসে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরে যায়।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ডিমোনার পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে কোনো ক্ষতি বা অস্বাভাবিক তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয়নি। তবে সংস্থাটি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পারমাণবিক স্থাপনার কাছে সামরিক সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
ডিমোনা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায়ও হামলা হয়েছে, তবে সেখানে কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি।
এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে, যেখানে তারা দাবি করেছে পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়ন করা হচ্ছিল।
সব মিলিয়ে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এখন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
















