যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ২৩তম দিনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। একই সময়ে ইসরায়েল তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে এবং শহরের পূর্বাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের একটি পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত বিভিন্ন শহরে প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছে।
ইরান পরিস্থিতি
রোববার ইসরায়েল তেহরানে নতুন হামলা চালায়, যা দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ঘটে।
ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সব জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানা হবে।
তেহরানের আকাশে একটি সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে, তবে কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা স্বাধীন ভূমিকা নিয়ে আগ্রাসন বন্ধে কাজ করে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৫০০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছে ২০ হাজারের বেশি মানুষ।
গালফ অঞ্চলে পরিস্থিতি
সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া প্রায় ৬০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে, যার বেশিরভাগই জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ছিল।
রিয়াদ অঞ্চলের দিকে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি ধ্বংস করা হয়েছে, বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে।
কাতারের পর সৌদি আরবও ইরানি কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে, তবে অধিকাংশই প্রতিহত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে হুমকি দিয়ে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই ধ্বংস হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের উপকূলবর্তী একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ভারী বোমা হামলা চালিয়েছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণ করা হতো।
ইসরায়েলের অবস্থা
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা ও আরাদ শহরে সরাসরি আঘাত হানে, এতে প্রায় ১০০ জন আহত হয়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে ৫০ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সপ্তাহান্তে ইসরায়েল ইরান ও লেবাননে ২০০টির বেশি স্থানে হামলা চালিয়েছে।
ইরাক ও লেবানন
লেবাননে হেজবোল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে।
ইরাকে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর ওপর ২১টি হামলার দাবি করেছে।
এরবিল বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে এবং বাগদাদের কাছে আরেকটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে চারজন আহত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি যৌথ বিবৃতিতে গালফ অঞ্চলে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তারা অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বিশ্লেষকরা বলছেন সংঘাত দ্রুত আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করছে এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
















