সাভার (আশুলিয়া), ২৭ অক্টোবর ২০২৫ — সাভারের আশুলিয়ার খাগান এলাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের একটি মেসে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাত ৯টার দিকে ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ নামের ওই বাসায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত:
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় সন্ধ্যায়। ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর ওপর সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল থেকে থুথু নিক্ষেপ করে। এই সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের বাসায় হামলা করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ:
- এই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
- উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম এবং পুলিশ তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানায়। প্রক্টর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে শিক্ষার্থীরা পরে ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে অবস্থান নেন।
- অন্যদিকে, হামলাকারী সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাভার থানার দু’টি টিম ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও প্রশাসনের সদস্যরাও উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি সামাল দেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিটি ইউনিভার্সিটির প্রক্টরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান এবং হামলার প্রমাণ হস্তান্তরের আশ্বাস দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধান কামনা করেন।
উদ্বেগ ও উত্তেজনা:
- সিটি ইউনিভার্সিটি ফুটবল দলের কোচ জনক কাজল জানান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও এখনও দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। ক্যাম্পাস প্রস্তুতি উত্তপ্ত থাকায় শিক্ষকদের সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
- আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হোসেন হাসনাত প্রশাসনকে আরও জোরালো ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংঘাত থামাতে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে, অন্যথায় এটি আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
















