যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত হরমুজ প্রণালীতে ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ এই প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ গ্যাস পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক হামলার পর সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক কমান্ডার দাবি করেছেন, প্রণালী ‘বন্ধ’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং যে কোনো জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তু হবে। এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দুজন নাবিক নিহত এবং প্রায় ১৫০টি জাহাজ প্রণালীর আশপাশে আটকে আছে বলে জানা গেছে।
সংঘাত শুরুর আগেই উত্তেজনার জেরে শুক্রবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ৭৩ ডলারে পৌঁছেছিল। সোমবার তা বেড়ে ৭৯ দশমিক ৪০ ডলারের ওপরে ওঠে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাহাজ চলাচল কমপক্ষে ৮০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় রুটে ভাড়া ও বীমা খরচও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
কিছু জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে গোপনে প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক অপারেটর, বড় তেল কোম্পানি ও বীমা সংস্থাগুলোর অনেকেই আপাতত ওই পথ এড়িয়ে চলছে। যুদ্ধঝুঁকি বীমার প্রিমিয়াম ইতোমধ্যে ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে পুরোপুরি বন্ধ রাখা ইরানের পক্ষেও কঠিন হবে, কারণ এতে উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তবু স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের জেট জ্বালানির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর আগের মতো নির্ভরশীল নয়, তবু বৈশ্বিক বাজারে দামের প্রভাব সেখানকার ভোক্তাদেরও বহন করতে হবে। জাহাজগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে বিকল্প পথে যেতে হলে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়বে। এতে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এই অস্থিরতায় কেউ কেউ লাভবানও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বড় জ্বালানি উৎপাদক দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তাদের উৎপাদকরা সুবিধা পেতে পারে। ফলে একদিকে ভোক্তা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উৎপাদকরা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
















