যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরায়েলের পরিকল্পিত হামলাই তেহরানে ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ছয়জন হয়েছে।
সোমবার কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানত ইসরায়েল ইরানে হামলা চালাতে যাচ্ছে এবং এর জবাবে তেহরান অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানবে। তাই সম্ভাব্য বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগেভাগেই হামলা চালানো হয়েছে।
তার ভাষায়, ইসরায়েলি পদক্ষেপের ফলে মার্কিন বাহিনীর ওপর তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি হতো। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই আঘাত হানে। তিনি দাবি করেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন জমা করছিল, যা পারমাণবিক কর্মসূচি রক্ষায় ব্যবহার হতে পারত।
এ বক্তব্যের কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি আঞ্চলিক স্থাপনা থেকে আরও দুই সেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
রুবিও বলেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে প্রথমে হামলা চালিয়েছে, তবু এটি ছিল আসন্ন হুমকি ঠেকাতে নেওয়া পদক্ষেপ। তার মতে, ইসরায়েল হামলা করবেই—এমন ধারণা থেকে যুক্তরাষ্ট্র আগাম ব্যবস্থা নেয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানে যে হামলা চলছে, তা বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।
রুবিও আরও বলেন, যুদ্ধের লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি ধ্বংস করা। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, ইরানের জনগণ যদি বর্তমান সরকার উৎখাত করে নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি করবে না।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অবিলম্বে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোসহ লেবানন, সিরিয়া, মিসর, ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
















