যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই যুদ্ধ কতটা ব্যয়বহুল হতে পারে এবং ওয়াশিংটন কতদিন তা বহন করতে পারবে।
অভিযানের নাম অপারেশন এপিক ফিউরি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যার লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের শুরু থেকে ইরানের ভেতরে ১,২৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ১১টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেন, ইরান ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-সংক্রান্ত অভিযানে আরও প্রায় ৯ দশমিক ৬৫ থেকে ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে।
বর্তমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান, নৌ ও স্থলবাহিনীর অন্তত ২০ ধরনের অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। বি-১ ও বি-২ বোমারু বিমান, এফ-৩৫ ও এফ-২২ যুদ্ধবিমান, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, হিমার্স রকেট ব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দুটি বিমানবাহী রণতরী এ অভিযানে অংশ নিচ্ছে। কেবল একটি বিমানবাহী রণতরী পরিচালনাতেই প্রতিদিন প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।
সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। হামলার আগে বাহিনী মোতায়েন ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়াসহ প্রস্তুতিমূলক ব্যয় ছিল আরও প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া কুয়েতে অন্তত তিনটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা অতিরিক্ত ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অর্থ নয়—অস্ত্রের মজুতই বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার হলেও প্যাট্রিয়ট বা এসএম-৬ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক দ্রুত তৈরি করা যায় না। এগুলো জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রযুক্তিতে তৈরি হয়। উচ্চমাত্রার প্রতিরোধ অভিযান দীর্ঘদিন চালিয়ে গেলে মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে জুন মাসে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। একই ধরনের অস্ত্র ইউক্রেন ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও প্রয়োজন। ফলে একাধিক ফ্রন্টে চাপ বাড়লে সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থের জোগান আপাতত সমস্যা নয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অস্ত্রভান্ডার ও উৎপাদন সক্ষমতার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে। যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং কতটা বিস্তৃত হবে—তার ওপরই নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয়ের পরিমাণ।
















