গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন। এদিকে নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু সামলানোর ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকটি প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে গ্রিনল্যান্ড—যা ডেনমার্কের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল—সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে জানান, আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং সংলাপের পথেই এগোনো সঠিক বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীও বৈঠককে গঠনমূলক বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, উচ্চপর্যায়ের যে কর্মদল গঠন করা হয়েছে, তাদের মাধ্যমে আলোচনা চলবে।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই বৈঠক হলো। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এখন আলোচনা চলছে এবং শেষ পর্যন্ত কী হয় তা দেখা যাবে।
কয়েক মাস ধরে কঠোর ভাষায় গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও গত মাসে তিনি কিছুটা নরম অবস্থান নেন। তখন তিনি বলেন, ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে তার এমন বোঝাপড়া হয়েছে যাতে ওই খনিজসমৃদ্ধ আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়বে।
গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদ সংস্থা ও একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপে প্রায় দশজনের মধ্যে সাতজন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি তার নিজ দলসমর্থকদের মধ্যেও প্রায় অর্ধেক এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন দাবি করে আসছে, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার কারণে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অভিযোগ, ডেনমার্ক বা ইউরোপ একা এই কৌশলগত অঞ্চল যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারছে না।
অন্যদিকে সুইডেন ঘোষণা দিয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলে নতুন ন্যাটো মিশনের অংশ হিসেবে তারা গ্রিনল্যান্ড এলাকায় টহলের জন্য যুদ্ধবিমান পাঠাবে। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাটো মিত্র হিসেবে জোটের পুরো ভূখণ্ডের নিরাপত্তায় অবদান রাখা তাদের দায়িত্ব এবং কৌশলগত দিক থেকে আর্কটিক অঞ্চলের গুরুত্ব বাড়ছে।
সুইডিশ সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো আইসল্যান্ড থেকে পরিচালিত হবে, যেখানে ন্যাটোর ঘূর্ণায়মান আকাশ টহল ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আগে থেকেই কয়েকটি বিমান মোতায়েন আছে। পাশাপাশি কয়েক সপ্তাহের জন্য বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের গ্রিনল্যান্ডে প্রশিক্ষণ মহড়ায় পাঠানো হবে।
















