জাম্বিয়ার হাইকোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গুর ছেলে ডালিতসো লুঙ্গুর প্রায় ১৩ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে। জব্দের তালিকায় রয়েছে ৭৯টি গাড়ি, ২৩টি জমি ও স্থাপনা—যার মধ্যে একটি শপিংমল, একটি পেট্রোলপাম্প, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট এবং রাজধানী লুসাকায় একটি অভিজাত বাসভবন রয়েছে।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, ৩৯ বছর বয়সী ডালিতসো লুঙ্গু ও তার প্রতিষ্ঠান সম্পদগুলো বৈধভাবে অর্জনের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও যাচাইযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালত তার কর্মজীবন ও আয়-উৎস পর্যালোচনা করে দেখে, পূর্বের চাকরি থেকে পাওয়া আয় এত বিপুল সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তদন্তে তার প্রতিষ্ঠান সালয়েড ট্রেডার্স লিমিটেডের আর্থিক বিবরণী, কর রিটার্ন, ব্যাংক নথি ও সামাজিক নিরাপত্তা অবদান বিশ্লেষণ করা হয়। আদালত জানায়, এসব নথি সম্পদ অর্জন বা রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা প্রমাণ করে না। কৃষিকাজ, ব্যবসা বা পারিবারিক সহায়তা থেকে অর্থায়নের দাবি যথাযথ নথিপত্রের অভাবে খারিজ করা হয়েছে।
ডালিতসোর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লুঙ্গু পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে আদালত সাবেক ফার্স্ট লেডি এসথার লুঙ্গুকেও ১৫টি ফ্ল্যাট রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়।
এডগার লুঙ্গু ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইন্ডে হিচিলেমার কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। গত জুনে দক্ষিণ আফ্রিকায় তার মৃত্যু হলেও দাফন এখনো হয়নি। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের জন্য মরদেহ দেশে ফেরাতে চাইলেও পরিবার দক্ষিণ আফ্রিকাতেই ব্যক্তিগতভাবে দাফন করতে চায়। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আইনি লড়াই চলমান রয়েছে।
সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচকদের অভিযোগ। অন্যদিকে সরকার বলছে, অবৈধ সম্পদ দমনে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
















