ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer কয়েক ঘণ্টার রাজনৈতিক নাটকের পর আপাতত টিকে গেলেও তার নেতৃত্ব গভীর ধাক্কা খেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত Peter Mandelson-কে ঘিরে নতুন করে প্রকাশিত নথির জেরে লেবার পার্টির ভেতর থেকেই তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, দণ্ডিত যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein কারাগারে যাওয়ার পরও ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এমনকি আর্থিক সংকটের সময় সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগও উঠে আসে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্টারমার স্বীকার করেন যে তিনি দুজনের সম্পর্ক সম্পর্কে জানতেন, তবে সম্পর্কের গভীরতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
স্কটিশ লেবার নেতা Anas Sarwar প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি বলেন, এই বিতর্ক সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে এবং নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য স্টারমারের পক্ষে অবস্থান নেন। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী Angela Rayner প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এই বিতর্কে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি দায়িত্ব নিয়ে সরে দাঁড়ান। যোগাযোগবিষয়ক প্রধান টিম অ্যালানও পদত্যাগ করেন। আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমার আপাতত নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারলেও জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক জরিপে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সামনে স্কটল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ও একটি উপনির্বাচন রয়েছে—সেখানে বড় ধরনের ধাক্কা এলে আবারও নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন তিনি।
লেবার পার্টি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় এলেও এরপর থেকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ডানপন্থী দল Reform UK জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসন ইস্যুতে জনচাপ বাড়ছে। এসবের মাঝেই এপস্টাইন-সংক্রান্ত নথি নতুন করে সংকট ঘনীভূত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট কেবল একটি নিয়োগ বিতর্ক নয়; এটি নেতৃত্বের বিচক্ষণতা ও নৈতিক অবস্থানের প্রশ্ন তুলেছে। স্টারমার টিকে গেলেও তার সরকার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল অবস্থানে।
















